Header Ads

Header ADS

মুস্তফা ﷺ এর নূরানিয়্যত ও বশরিয়্যত

 মুস্তফা ﷺ এর নূরানিয়্যত ও বশরিয়্যত



প্রশ্ন: এটা কি সম্ভব, কেউ নূরও এবং মানুষও? 


উত্তর: জি হ্যাঁ! এটা অবশ্যই সম্ভব, কেননা নূর ও মানব দু'টি পরস্পর বিপরীত নয়। হযরত সায়্যিদুনা জিবরাঈল عَلَیۡہِ الصَّلٰوۃُُ وَالسَّلَام নূরের সৃষ্টি হওয়ার পরও হযরত সায়্যিদাতুনা মরিয়ম رَضِیَ اللّٰہُ عَنْہُ এর নিকট মানুষের আকৃতি ধারণ করে আসতেন। যেমনটি আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন: 


« فَاَرۡسَلۡنَاۤ اِلَیۡہَا رُوۡحَنَا فَتَمَثَّلَ لَہَا بَشَرًا سَوِیًّا »


অনুবাদ: “ তারপর তার প্রতি আমি আপন রূহানী প্রেরণ করেছি, সে তার সামনে একজন সুস্থ মানুষের রূপে আত্মপ্রকাশ করলাে। ” [সূরা মরিয়ম, আয়াত: ১৭]


প্রশ্ন: নূর ও মানব হওয়ার ভিত্তিতে প্রিয় নবী ﷺ এর সম্পর্কে আমাদের আক্বীদা কি?


উত্তর: নূর ও মানব হওয়ার ভিত্তিতে প্রিয় নবী ﷺ এর সম্পর্কে আমাদের আক্বীদা এটা যে, আমাদের আক্বা ﷺ নূরও এবং মানবও। অর্থাৎ আসল স্বত্বার দিক দিয়ে নূর এবং আকৃতির দিক দিয়ে অতুলনীয় মানব।


প্রশ্ন: প্রিয় নবী ﷺ এর নূর হওয়া কি কোরআনে পাক দ্বারা প্রমানিত?


উত্তর: জি হ্যা! প্রিয় নবী ﷺ নূর হওয়া কোরআনে পাক দ্বারা প্রমানিত। যেমনটি ইরশাদ হচ্ছে: 


« قَدۡ جَآءَکُمۡ مِّنَ اللّٰہِ نُوۡرٌ وَّ کِتٰبٌ مُّبِیۡنٌ »


অনুবাদ: নিশ্চয় তােমাদের নিকট আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আগমন করেছে এক নূর এবং সুস্পষ্ট কিতাব। [সূরা মায়েদা: ১৫] তাফসীরে রুহুল মাআনীতে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় রয়েছে। অর্থাৎ নূরে আযীম (মহান নূর) এবং ঐ নূরের নূর হচ্ছেন প্রিয় নবী ﷺ।

[তাফনীরে রুহুল মাআনী, ৬ পারা, সূরা মায়েদা, ১৫নং আয়াতের পাদটিকা, ৬ষ্ঠ অংশ, ৩৬৭ পৃষ্ঠা]


মুফাস্সিরগন বলেন: “ এখানে নূর দ্বারা উদ্দেশ্য হলাে হযরত মুহাম্মদ ﷺ। ”

[তাফসীরে জালালাঈন: ৯৭ পৃষ্ঠা]

[তাফসীরে সাবী: ১/৪৫১ পৃষ্ঠা]

[তাফসীরে বগভী: ২/১৩৮ পৃষ্ঠা]

[তাফসীরে তাবারী: ৬/১৭৬ পৃষ্ঠা]

[তাফসীরে সমরকন্দি: ১/৩৭৮ পৃষ্ঠা]


প্রশ্ন: প্রিয় নবী ﷺ কি নিজে নূর হওয়ার ব্যাপারে স্বয়ং উল্লেখ করেছেন?


উত্তর: জি হ্যা! প্রিয় নবী ﷺ নিজে নূর হওয়া সম্পর্কে স্বয়ং ইরশাদও করেছেন। যেমনটি হযরত সায়্যিদুনা জাবির বিন আব্দুল্লাহ আনসারী رَضِیَ اللّٰہُ عَنْہُ বলেন: আমি আরয করলাম: ইয়া রাসূলাল্লাহ ﷺ! আমার পিতা-মাতা আপনার প্রতি উৎসর্গিত! আমাকে বলুন যে, আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম কোন জিনিস বানিয়েছেন? তখন হুযুর ﷺ ইরশাদ করলেন: হে জাবির! নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা সকল সৃষ্টির পূর্বে তােমার নবীর নূর আপন নূর হতে সৃষ্টি করেছেন। ”

[ইমাম সূয়ূতী: হাবী লিল ফাতাওয়া: ১/৩৮৪ পৃষ্ঠা]

[তাফসীরে রুহুল মাআনী: ১/৯০ পৃষ্ঠা]

 আব্দুর রাজ্জাক: যুয উল মাফকুদ, ৬৩ পৃষ্ঠা, হাদীস: ১৮]

[মাওয়াহিবু লিদুনিয়া, ১/৩৬ পৃষ্ঠা]


প্রশ্ন: প্রিয় নবী ﷺ এর (বশরীয়ত) মানব হওয়াকে অস্বীকার করা কেমন?


উত্তর: প্রিয় নবী ﷺ এর (বশরীয়ত) মানব হওয়াকে একেবারেই অস্বীকার করা কুফরী। (ফতােয়ায়ে রযবিয়্যাহ, ১৪/৩৫৮) বরং এতে সন্দেহ করাও কুফরী, কেননা প্রিয় নবী ﷺ এর বশরীয়ত (মানব) হওয়াটা কোরআন করীমের স্পষ্ট আয়াত দ্বারা প্রমাণিত। তবে হ্যা! আমাদের মতাে মানব বলবেন না, খাইরুল বশর (মহামানব), সায়্যিদুল বশর (শ্রেষ্ট মানব) বলুন। ” [কুফরিয়া কালিমাত কে বাৱে মে সাওয়াল জাওয়াব, ২২৪ পৃষ্ঠা] কেননা সমস্ত আম্বিয়ায়ে কিরাম عَلَیۡہِ الصَّلٰوۃُُ وَالسَّلَام মানুষই ছিলেন। যেমনটি আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন:


« وَمَاۤ اَرۡسَلۡنَا مِنۡ قَبۡلِکَ اِلَّا رِجَالًا » 

 

অনুবাদ: “ এবং আমি আপনার পূর্বে যতাে রাসূল প্রেরণ করেছি সবাই পুরুষ ছিল। ”

[সূরা ইউসুফ, আয়াত ১০৯]


প্রশ্ন: প্রিয় নবী ﷺ কে আমাদের মতাে মানুষ বলা কেমন?


উত্তর: প্রিয় নবী ﷺ কে আমাদের মতাে মানুষ বলা ঈমানদারদের পন্থা নয়, কেননা ইচ্ছাকৃত ভাবে অবজ্ঞা করার উদ্দেশ্যে এরূপ বলা অসৎ উদ্দেশ্যের কারণে নিঃসন্দেহে কুফরী। নিশ্চয় হুযুর ﷺ মানবও কিন্তু তাঁর মানব হওয়া সাধারণ মানুষের মতাে নয়, অতএব তাঁর মানব হওয়াকে সাধারণ মানুষের মতাে বলা মুসলমানের মতবাদ নয় বরং কোরআনে করীমের বিভিন্ন স্থানে একে কাফিরদের পদ্ধতি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে, কেননা তারা তাদের নবীকে তাদের মতাে মনে করতাে। যেমনটি আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন:


 « وَ لَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا نُوۡحًا اِلٰی قَوۡمِہٖ فَقَالَ یٰقَوۡمِ اعۡبُدُوا اللّٰہَ مَا لَکُمۡ مِّنۡ اِلٰہٍ غَیۡرُہٗ ؕ اَفَلَا تَتَّقُوۡنَ ° فَقَالَ الۡمَلَؤُا الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا مِنۡ قَوۡمِہٖ مَا ہٰذَاۤ اِلَّا بَشَرٌ مِّثۡلُکُمۡ ۙ »


অনুবাদ: “ নিশ্চয় আমি নূহকে তার সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরণ করেছি, সুতরাং সে বললাে, হে আমার সম্প্রদায় আল্লাহর ইবাদত করাে তিনি ব্যতীত তােমাদের অন্য কোন খােদা নেই, তবে কি তােমাদের ভয় নেই? অতঃপর তার সম্প্রদায়ের যে সব সরদার কুফর করেছে, তারা বললাে, এতাে নয়, কিন্তু তােমাদের মতাে মানুষ। ”

[সূরা মু'মিনুন: আয়াত, ২৩-২৪]


জানা গেলাে, নবীর শানে আঘাত করার জন্য মানুষ মানুষ বলে বেড়ানাে দুষ্ট কাফিরদের পদ্ধীত এবং প্রিয় নবী ﷺ মানুষ তাে বটে কিন্তু আমাদের মতাে নয় বরং মহা মানব।


[দাওয়াতে ইসলামীর কিতাব ‘ইসলামের মৌলিক শিক্ষা: ৩য় অংশ, ৬৯-৭১ পৃষ্ঠা হতে সংগৃহীত। কিছু সূত্র অতিরিক্ত সংযোজন করা হয়েছে]

No comments

Powered by Blogger.