মাজযুব ওলীর উচ্ছিষ্ট খাবার (ঘটনা)
মাজযুব ওলীর উচ্ছিষ্ট খাবার:
যখন হযরত খাজা গরীবে নেওয়াজ (رَحۡمَۃُ اللّٰہ ِعَلَیہِ) পনের বত্সর বয়সে উপনীত হলেন, তখন তিনি পিতৃহারা হয়ে যান। ওয়ারিশ হিসাবে তিনি একটি বাগান আর একটি যাঁতা পেলেন। সেগুলােকে তিনি জীবন ধারণের উপকরণ বনালেন। তিনি নিজেই বাগানটির দেখাশােনা করতেন এবং বাগানে পানি দেওয়ার কাজ করতেন। একদিন তিনি (رَحۡمَۃُ اللّٰہ ِعَلَیہِ) বাগানের চারাগুলােতে পানি দিচ্ছিলেন এমন সময় তঙ্কালীণ প্রসিদ্ধ মাজযুব ওলী হযরত সায়্যিদুনা ইবরাহীম কানদুযী (رَحۡمَۃُ اللّٰہ ِعَلَیہِ) বাগানে প্রবেশ করলেন। তিনি (رَحۡمَۃُ اللّٰہ ِعَلَیہِ) যখন আল্লাহর এই মকবুল বান্দাকে দেখতে পেলেন, সাথে সাথেই সব কাজকর্ম বন্ধ করে দিয়ে দৌড়ে এসে তাঁকে সালাম করলেন এবং হাতে চুম্বন করলেন। অত্যন্ত সম্মান ও শ্রদ্ধা পূর্বক তিনি তাকে একটি গাছের ছায়ায় বসালেন। অতঃপর অত্যন্ত আদব সহকারে তাজা আঙ্গুরের একটি ডাল এনে তাঁর সামনে রাখলেন এবং তাঁর সামনে দু'জানু হয়ে বসে পড়লেন। আল্লাহর ওলীকে বাগানের মালিক এই যুবকের আচরণ খুবই সন্তুষ্ট করল। তিনি খুশি হয়ে বগলের (নিচে থলে) থেকে এক টুকরা খৈল (সরিষার তুষ) বের করে মুখে দিয়ে চিবিয়ে খাজা গরীবে নেওয়াজ (رَحۡمَۃُ اللّٰہ ِعَلَیہِ) এর মুখে ঢুকিয়ে দিলেন। যেই খৈলের টুকরাটি গলার নিচে যেতেই খাজা গরীবে নেওয়াজ (رَحۡمَۃُ اللّٰہ ِعَلَیہِ) এর মনের অবস্থা সম্পূর্ণ পরিবর্তন হয়ে গেল। তাঁর মন থেকে দুনিয়ার মুহাব্বত একেবারে চলে গেল। তিনি (رَحۡمَۃُ اللّٰہ ِعَلَیہِ) বাগান, যাঁতা সহ সব কিছু।বিক্রি করে দিলেন। বিক্রিলব্ধ সব টাকা-পয়সা গরীব-মিসকিনদেরকে দান করে দিলেন। এর পর ইলমে দ্বীন অর্জনের উদ্দেশ্যে আল্লাহর রাস্তায় বেরিয়ে পড়লেন।
[মিরআতুল আসরার: ৫৯৩ পৃষ্ঠা]
[তারিখে ফিরিশতা, ২য় খন্ড, ৭৪০ পৃষ্ঠা]
প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! জানা গেলাে যে, আদব মানুষকে অনেক উচ্চ ও উচ্চতর গুণাবলীর অধিকারী বানাতে পারে, বিশেষ করে আল্লাহ তায়ালার নেক বান্দাদের আদব করা, তাঁদের সেবাযত্ন করা, তাঁদের পরিস্কার পরিছন্ন স্থানে বসতে দেয়া, তাঁদের খেদমতে আদব সহকারে বসা এবং তাদের উচ্ছিষ্ট জিনিষ খাওয়া দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার উপলক্ষ্য হয়ে থাকে, যেমনটি খাজা গরীবে নেওয়াজ (رَحۡمَۃُ اللّٰہ ِعَلَیہِ)। আল্লাহ তায়ালার অলীর আদব করেছেন বলেই আল্লাহ তায়ালা তাঁকে নিজের অলী বানিয়ে নিয়েছেন, মনে রাখবেন! আদব এমন একটি জিনিস, যার মাধ্যমে মানুষ ইহকালিন ও পরকালিন নেয়ামত অর্জন করে নেয় এবং যে এই গুণ থেকে বঞ্চিত, অনেক সময় সে এই নেয়ামতের অধিকারী হয়না। সম্ভবত এই কারণেই বলা হয় যে,
“ বা আদব বা নসীব, বে আদব বে নসীব ”
এবং নবী করীম (ﷺ) তাঁর বিশেষ খাদেম হযরত আনাস (رَضِیَ اللّٰہُ عَنْہُ) কে ইরশাদ করেন:
“ হে আনাস! বড়দের আদব ও সম্মান এবং শ্রদ্ধা ও ভক্তি করাে এবং ছােটদের স্নেহ করাে, তুমি জান্নাতে আমার সহচর্য পেয়ে যাবে। ”
[শুয়াবুল ঈমান: ৭/৪৫৮, হাদিস: ১০৯৮১]
হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতি رَحۡمَۃُ اللّٰہ ِتَعَالٰی عَلَیہِ এর আরো ঘটনা জানতে ‘ভয়ানক জাদুকর’ বইটি পড়ুন। এটি ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন

No comments