শবে বরাত সম্পর্কিত ৯টি হাদিস শরীফ
শবে বরাত সম্পর্কিত ৯টি হাদিস শরীফ
────────────
১৫ ই শাবানের রােযা ও ইবাদত!
(১) হযরত সায়্যিদুনা আলী رَضِیَ اللّٰہُ عَنْہ থেকে বর্ণিত; নবী করীম, রউফুর রহীম ﷺ এর মহান বাণী: “ যখন শাবানের ১৫ তম রাতের আগমন ঘটে তখন তাতে কিয়াম (ইবাদত) করাে আর দিনে রােযা রাখাে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলা সূর্যাস্তের পর থেকে প্রথম আসমানে বিশেষ তাজাল্লী (উজ্বল্য) বর্ষণ করেন এবং ইরশাদ করেন: “ কেউ আছ কি আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কারী? তাকে আমি ক্ষমা করে দিব! কেউ আছ কি জীবিকা প্রার্থনা কারী? তাকে আমি জীবিকা দান করব! কেউ আছ কি মুসিবতগ্রস্ত? তাকে আমি মুক্তি প্রদান করব! কেউ এমন আছ কি! কেউ এমন আছ কি! সূর্য উদয় হওয়া পর্যন্ত এরূপ ইরশাদ রতে থাকেন । ”
(সুনানে ইবনে মাযাহ, ২/১৬০ পৃষ্ঠা, হাদীস: ১৩৮৮)
(সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ১৩৮৮)
“ দুররে মুখতার ” এর মধ্যে রয়েছে: “ শবে বরাতের রাত জেগে ইবাদত করা মুস্তাহাব, (শুধু সম্পূর্ণ রাত জেগে থাকাকে রাত জাগ্রত থাকা বলেনা) বরং রাতের অধিকাংশ সময় জেগে থাকাও হচ্ছে রাত জাগ্রত থাকা। ”
(দুররে মুখতার, ২য় খন্ড, ৫৬৮ পৃষ্ঠা)
অসংখ্য গোনাহগারকে ক্ষমা করে দেন!
(২) উম্মুল মু'মিনীন হযরত সায়্যিদাতুনা আয়িশা সিদ্দিকা رَضِیَ اللہُ عَنۡہَا বলেন: “ আমি এক রাতে রাসুলুল্লাহ ﷺ কে দেখলাম না। অতঃপর জান্নাতুল বাক্বীর কবরস্থান এ পেলাম। ” তিনি আমাকে ইরশাদ করলেন: “ তুমি কি এ কথার আশংকা করেছিলে যে, আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসুল তামার প্রাপ্য বিনষ্ট করবে? ” আমি আরয করলাম: “ হে আল্লাহর রাসুল! আমি ধারণা করেছি যে, হয়তাে আপনি বিবিগণের মধ্যে কারাে ঘরে তাশরীফ নিয়ে গেছেন। ” তখন ইরশাদ করলেন: “ নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা শাবানের ১৫ তারিখ রাতে প্রথম আসমানের উপর তাজাল্লী (আলাে) বিচ্ছুরিত করেন, অতঃপর বনী কালব গোত্রের ছাগল গুলাের পশম অপেক্ষাও অধিক গুনাহগারকে ক্ষমা করে দন। ”
(সুনানে তিরমিযী, ২/১৮৩ পৃষ্ঠা, হাদীস: ৭৩৯)
(ইবনে মাযাহ, ১/৪৪৪ পৃষ্ঠা, হাদিস: ১৩৮৯)
যাদের এই রাতেও ক্ষমা করা হয় না!
(৩) হযরত আবু মূসা আশআরী رَضِیَ اللّٰہُ تَعَالٰی عَنْہُ থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন: “ আল্লাহ তায়ালা শাবানের ১৫তম রাতে সমগ্র যমীনের অধিবাসীদের ক্ষমা করে দেন, (শুধুমাত্র) কাফের ও শত্রুতা পোষণকারীদের ছাড়া। ”
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৩৯০)
(মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস: ১৩০৬)
(৪) হযরত সায়্যিদাতুনা আয়েশা সিদ্দিকা رَضِیَ اللہُ عَنۡہَا বলেন: প্রিয় নবী ﷺ ইরশাদ করেছেন: “ আমার নিকট জিবরাঈল عَلَیۡہِ َالسَّلَام এসে বললেন; এটা শাবানের ১৫ তম َরাত, َ এ রাতে আল্লাহ তাআলা বনী কালব এর ছাগলের পশম পরিমাণ লােককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি প্রদান করেন। তবে কাফির ও শত্রুতা পােষনকারী, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী, টাখনুর নিচে কাপড় পরিধানকারী, মাতা-পিতার অবাধ্য এবং মদ পানে অভ্যস্তদের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন না। ”
(শুয়াবুল ঈমান, ৩/৩৮৪ পৃষ্ঠা, হাদীস: ৩৮৩৭)
(৫) রাসূলে আকরাম, নূরে মুজাস্সম ﷺ ইরশাদ করেন: “ ছয় প্রকারের ব্যক্তিদেরকে এ রাতেও ক্ষমা করা হয় না:- (১) মদ্যপানে অভ্যস্ত, (২) মাতা-পিতার অবাধ্য, (৩) ব্যভিচারী, (৪) আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী, (৫) ছবি প্রস্তুতকারী, (৬) চোগলখাের। ”
(ইমাম বায়হাকী: ফাযায়েলুল আওকাত, ১/১৩০ পৃষ্ঠা, হাদীস: ২৭)
এই রাতে দোয়া কবুল হয়!
(৬) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমরرَضِیَ اللّٰہُ عَنْہ বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺ পাঁচটি রাতের ব্যাপারে ইরশাদ করেন: “ এতে দোয়া রদ করা (ফিরিয়ে দেওয়া) হয়না, যার মধ্যে একটি শাবানের পনেরতম রাত (অর্থাৎ শবে বরাত)। ”
(মু'জামুল আওসাত: হাদিস: ৬৭৭৬)
(জামে সগীর, ২৪১ পৃষ্ঠা, হাদীস: ৩৯৫২)
কল্যাণের দরজা খুলে দেওয়া হয়।
(৭) হযরত সায়্যিদাতুনা আয়িশা সিদ্দিকা বলেন: “ আমি রাসুলে করীম কে ইরশাদ করতে শুনেছি, আল্লাহ তাআলা (বিশেষত) চারটি রাতে কল্যাণের দরজা খুলে দেন: (১) কুরবানীর ঈদের রাত, (২) ঈদুল ফিতরের রাত, (৩) শাবানের ১৫ তম রাত। এই রাতে মৃত্যুবরণকারীদের নাম ও মানুষের রিক (জীবিকা) এবং (এ বৎসরের) হজ্ব পালনকারীদের নাম লিখা হয়, (৪) আরাফাহ ( যিলহজ্জের ৮ ও ৯ তারিখে) এর রাত (ফজরের) আযান পর্যন্ত। ”
(তাফসীরে দূররে মানসুর, ৭/৪০২ পৃষ্ঠা)
এই রাতে সবার জন্য দোয়া করা সুন্নাত'
(৮) হযরত সায়্যিদাতুনা আয়েশা সিদ্দিকা رَضِیَ اللہُ عَنۡہَا বলেন: “ আমি হুযুরে আকরাম ﷺ কে শাবানের পনের তারিখ রাতে জান্নাতুল বাক্বীতে এই অবস্থায় পেয়েছি যে, হুযুর মুসলমান পুরুষ ও নারী এবং শহীদদের জন্য মাগফিরাতের দোয়া করছেন। ”
(শুয়াবুল ঈমান, ৩/৩৮৪, হাদীস: ৩৮৩৭)
এই রাতে জন্ম ও মৃত্যুবরণকারীদের নাম লিখা হয়। আমল উঠানো হয়, আর রিযিক নাযিল করা হয়।
(৯) হযরত আয়িশাহ্ সিদ্দিকা رَضِیَ اللہُ تَعَالٰی عَنۡہَا থেকে বর্ণিত: রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাকে ইরশাদ করেন: “ তুমি কি জান এ রাতে অর্থাৎ শা‘বান মাসের ১৫তম রাতে কি ঘটে? ” আমি বললাম: “ হে আল্লাহর রসূল ﷺ! আমি তো জানি না। আপনিই বলুন এ রাতে কি ঘটে? ” রসূলুল্লাহ ﷺ তখন ইরশাদ করলেন: “ বনী আদামের প্রতিটি লোক যারা এ বছর জন্মগ্রহণ করবে এ রাতে তাদের নাম লেখা হয়। আদম সন্তানের যারা এ বছর মৃত্যুবরণ করবে এ রাতে তা ঠিক করা হয়। আর এ রাতে বান্দাদের আমল উপরে উঠানো হয়। এ রাতে বান্দাদের রিযিক নাযিল করা হয়। ”
(মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস: ১৩০৫)

No comments