খাবার খাওয়ার ২৫ টি সুন্নাত
খাবার খাওয়ার ২৫ টি সুন্নাত
(১) প্রিয় নবী (ﷺ) হেলান দিয়ে খেতেন না।
(সুনানে আবী দাউদ, ৩/৪৮৮, হাদীসঃ ৩৭৬৯)
(২) টেবিলের উপর রেখে খাবার খেতেন না।
(সহীহ বুখারী, ৩/২৪, হাদীসঃ ৫৫৩৮৬)
(৩) যা কিছু পেতেন খেয়ে নিতেন।
(সহীহ মুসলিম, ১১৩৪ পৃষ্ঠা, হাদীসঃ ২০৫২)
(৪) পরিবারের লােকদের নিকট থেকে খাবার চেয়ে নিতেন না এবং তাদের নিকট প্রয়ােজনের কথা প্রকাশ করতেন না। যদি তারা উপস্থাপন করতেন তাহলে খেয়ে নিতেন এবং তারা যা কিছু সামনে রাখতেন তা গ্রহণ করতেন আর যা কিছু পান করাতেন তা পান করে নিতেন।
(আতাহাফুস সাদাতুল মুত্তাকীন, ৮/২৪৮ পৃষ্ঠা)
(৫) অনেক সময় নিজে উঠে পানাহারের বস্তুগুলাে নিয়ে নিতেন।
(সুনানে আবী দাউদ, ৪/৫ পৃষ্ঠা, হাদীসঃ ৩৮৫৬)
(৬) হুযুর (ﷺ) নিজের সামনে থেকে খাওয়া শুরু করতেন।
(শুয়াবুল ঈমান, ৫/৭৯ পৃষ্ঠা, হাদীসঃ ৫৮৪৬)
(৭) এবং তিন আঙ্গুল দ্বারা আহার করতেন।
(মুসান্নিফে আবী শায়বাহ, ৫/৫৫৯, হাদীসঃ ৩)
(৮) আর কোন সময় চার আঙ্গুল দিয়েও খেয়ে নিতেন।
(জামিউস সগীর, ২৫০ পৃষ্ঠা, হাদীসঃ ৬৯৪২) কিন্তু দুই আঙ্গুল দ্বারা খাবার খেতেন না। তাজেদারে রিসালত, শাহানশাহে নবুয়ত, হুযুর (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ “ এটা শয়তানের খাওয়ার পদ্ধতি। ”
(জামিউস সাগীর, ৫/২৪৯, হাদীসঃ ৬৯৪০)
(৯) জবের (অমসৃণ ) ভুষি, আলাদা করা হয়নি এমন আটার রুটি আহার করতেন।
(সহীহ বুখারী, ৩/৫৩১ পৃষ্ঠা, হাদীসঃ ৫৪১০)
(১০) হুযুর (ﷺ) এর খাবার প্রায়ই খেজুর ও পানি দিয়ে হত।
(সহীহ বুখারী, ৩/৫২৩, হাদীসঃ ৫৩৮৩)
(১১) হুযুর (ﷺ) দুধ ও খেজুর একত্রে ব্যবহার করতেন এবং সেটাকে উত্তম খাবার সাব্যস্ত করতেন।
(মুসনাদে ইমাম আহমদ, ৫/৩৮৫, হাদীসঃ ১৫৮৯৩)
(১২) হুযুর (ﷺ) এর পছন্দনীয় খাদ্য ছিল মাংস। (জামে তিরমিযী, ৫/৫৩৩, হাদীসঃ ১৭৮)
(১৩) হুযুর (ﷺ) ইরশাদ করতেনঃ “ মাংস কানের শ্রবণ শক্তি বৃদ্ধি করে। আর দুনিয়া ও আখিরাতের খাবারের সর্দার। যদি আমি আল্লাহর নিকট চাইতাম যে, আমাকে প্রতিদিন মাংস প্রদান করুন তবে প্রদান করতেন।
(আত্তাহাফুস সাদাতুল মুত্তাক্বীন, ৮/২৩৮ পৃষ্ঠা)
(১৪) হুযুর পুরনূর (ﷺ) মাংস ও লাউ দিয়ে তরকারী তৈরী করে খেতেন। (অর্থাৎ- মাংস ও কদু শরীফের তরকারীতে রুটির টুকরা ভালভাবে ভিজিয়ে আহার করতেন।)
(আত্তাহাফুস সাদাতুল মুত্তাকীন, ৭/২৩৯ পৃষ্ঠা)
(১৫) হুযুর (ﷺ) যখন মাংস খেতেন, তখন সেটার দিকে পবিত্র মাথাকে ঝুঁকাতেন না।
(আত্তাহাফুস সাদাতুল মুত্তাকীন, ৭/২৩৯ পৃষ্ঠা) বরং সেটাকে নিজের মুখ মুবারকের দিকে উঠাতেন অতঃপর দাঁত মােবারক দিয়ে কাটতেন।
(জামে তিরমিযী, ৩/৩২৯, হাদীসঃ ১৮৪২)
(১৬) হুযুর (ﷺ) এর নিকট ছাগলের মাংসের মধ্যে রান ও ঘাড়ের মাংস পছন্দনীয় ছিল।
(জামে তিরমিযী, ৩/৩৩০, হাদীসঃ ১৮৪২, ১৮৪৪)
(১৭) হুযুর (ﷺ) গুর্দা (খাওয়া) পছন্দ করতেন না, কারণ তা প্রস্রাবের (থলির) নিকটবর্তী হয়ে থাকে।
(কানযুল উম্মাল, ৭/৪১, হাদীসঃ ১৮২১২)
(১৮) হুযুর (ﷺ) এর নিকট প্লীহা (খাওয়ার প্রতি) ঘৃণা ছিল কিন্তু সেটাকে হারাম সাব্যস্ত করেননি।
(আত্তাহাফুস সা'দাতুল মুত্তাকীন, ৮/২৪৩ পৃষ্ঠা)
(১৯) হুযুর (ﷺ) এর মােবারক আঙ্গুলগুলাে দিয়ে থালা চেটে খেতেন এবং ইরশাদ করতেনঃ “ খাবারের শেষাংশে বরকত বেশী থাকে। (শুয়াবুল ঈমান, ৫/৮১, হাদীসঃ ৫৮৫৪)
(২০) হুযুর পুরনূর (ﷺ) এর নিকট তাজা ফলের মধ্যে তরমুজ ও আঙ্গুর বেশি পছন্দনীয় ছিল।
(কানযুল উম্মাল, ৭/৪১, হাদীসঃ১৮২০০)
(২১) তরমুজ, রুটি ও চিনি দিয়ে আহার করতেন।
(আতাহাফুস সা'দাতুল মুত্তাকীন, ৮/২৩৬ পৃষ্ঠা)
(২২) অনেক সময় ভেজা খেজুরের সাথে (তরমুজ) খেতেন।
(জামে তিরমিযী, ৩/৩৩২, হাদীসঃ ১৮৫০)
(২৩) উভয় হাতের দ্বারা সাহায্য নিতেন। একদা হুযুর (ﷺ) ভেজা খেজুর ডান হাতে খাচ্ছিলেন আর বীচি বাম হাতে রাখছিলেন। একটি ছাগল পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, রাসুল সেটাকে বীচি সহকারে ইশারা করলেনঃ সেটা হুযুর (ﷺ) এর বাম হাত থেকে বীচিগুলাে খেতে লাগল এবং তিনি ডান হাতে খাচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত হুযুর পুরনূর (ﷺ) অবসর হলেন। তখন সেটাও চলে গেল।
(আততাহাফুস সা'দাতুল মুত্তাকীন, ৮/২৩৭ পৃষ্ঠা)
(২৪) আল্লাহর রাসুল (ﷺ) কাঁচা রসুন, কাঁচা পিয়াজ ও গিনদানা (এক প্রকার দুর্গন্ধযুক্ত সবজী) খেতেন না।
(তারীখে বাগদাদ, ২/২৬২ পৃষ্ঠা)
(২৫) হুযুর (ﷺ) কখনাে কোন খাদ্যকে মন্দ বলেন নি। যদি ভাল লাগতাে খেয়ে নিতেন আর পছন্দ না হলে তার মােবারক হাত থামিয়ে নিতেন।
(সহীহ মুসলিম, ১১৪১ পৃষ্ঠা, হাদীসঃ ২০৬৪)
_______________________________
(আমীরে আহলে সুন্নাত, মাওলানা মুহাম্মাদ ইলইয়াস আত্তার ক্বাদেরী (دامت برکاتهم العالية) এর লিখিত কিতাব “ ফয়যানে সুন্নাত ” এর ২৪৩-২৩৫ পৃষ্ঠা থেকে নেওয়া)

No comments